Home / বিউটি টিপস / ঘরোয়া উপাদান দিয়ে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ রূপচর্চা

ঘরোয়া উপাদান দিয়ে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ রূপচর্চা

আজ আপনাদের মাঝে অরেকটি আর্টিকেল নিয়ে হাজির হলাম। আজ আপনাদের জানাবো ঘরোয়া উপাদান দিয়ে প্রাকৃতিক(Natural) ও নিরাপদ রূপচর্চা সে সম্পর্কে। রূপচর্চার কথা ভাবছেন? ভাবছেন অনেক টাকা খরচ, এত দাম দিয়ে প্রসাধনী কিভাবে কিনবো ? আর দামের কথা বাদ দিলেও বাজারের(Market) প্রাপ্ত প্রসাধনীগুলোতে থাকে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় । তাই বাজারের প্রসাধনীর ভাবনা বাদ দিয়ে ঘরে ব্যবহৃত সামগ্রী দিয়েই আপনি নিজেকে অপরূপ করে তুলতে পারেন। এতে খরচ যেমন কমে যাবে তেমনি পার্শপ্রতিক্রিয়ার চিন্তা ও থাকবে না । নিচে কয়েকটি ঘরোয়া উপাদানের নাম, ব্যবহার ও গুণাগুণ আপনাদের জন্য তুলে ধরা হলো।ঘরোয়া উপাদান দিয়ে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ রূপচর্চা

ঘরোয়া উপাদান দিয়ে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ রূপচর্চা

হলুদঃ
হলুদের গুণের কথা শেষ করে যাবে না। রূপচর্চায় হলুদের ভূমিকা অনেক। আগের দিনে নারীরা হলুদ ব্যবহার করতেন নিজেদের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে । নানান রোগের9Disease) জন্য কাঁচা হলুদের রস ও খেতেন হয়তো । আমরা অনেকেই হয়ত জানি না যে বেশিরভাগ ফেসপ্যাক কাঁচা হলুদ দিয়ে তৈরি করা হয় । অনেকের গায়ের রঙ ফ্যাকাশে । তারা যদি একটু কাঁচা হলুদ বেটে তার সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে গায়ে ,হাতে এবং পায়ে মেখে প্রতিদিন গোসল করেন তাহলে দেখবেন ফ্যাকাশে ভাব আর নেই। কাঁচা হলুদের সাথে দুধের সর ও মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি আর ফলপ্রদ ।

দ্বিতীয়তঃ হলুদ লোমনাশক। নিয়মিত মাখলে শরীরের(Body) লোম বাড়ে না। এতে ওয়াক্সিং-এর কাজ ভাল হয । কাঁচা হলুদ বাটার সাথে নিমপাতা বেটে বানিয়ে রোদে শুকিয়ে রাখলে আর তারপর প্রতিদিন খালিপেটে খেলে লিভার ভালো থাকে আর লিভার ভালো থাকার কারণেই মুখে দাগ পড়ে না । কাঁচা হলুদ আখের গুড়ের সাথে খালি পেটে খেলে রক্ত(Blood) পরিশোধিত হয় বলে স্বাস্থ্য রক্ষা এবং রূপচর্চা উভয়ই একসাথে হয়ে যায় ।

ডাবঃ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন , ডাবের পানিতে অনেকগুলো খনিজ উপাদান রয়েছে । অন্ততপক্ষে পনেরোটি খনিজ উপাদান রয়েছে বলে জানা যায়। প্রতিদিন দুটো ডাব খেলে ত্বকের(Skin) কমনীয়তা বাড়ে । বসন্ত হলে কচি ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুলে দাগ চলে যায় । মুখে ব্রনের দাগের জন্য ডাবের পানি আপনি সহজেই ব্যবহার করতে পারেন এবং বিশেষ ভাল ফল পাবেন । ডাবের পানিতে অল্প তুলা ভিজিয়ে মুখে লাগিয়ে মুখ শুকাতে দিন ফ্যানের বাতাসে । তারপর হাত দিয়ে আস্তে আস্তে মুখ ঘষে দেবেন । এতে মুখে সুন্দর উজ্জ্বলভাব(Brightness) চলে আসবে। মুখের ত্বক কোমল এবং মসৃণ হবে। কাজটি দিনে দুই থেকে তিনবার করলে আপনার চেহারায় লাবণ্য ফিরে আসবে ।

তেমনি নারকেল ও রূপচর্চায় অনেক উপকারী বিশেষত চুলের জন্য। নষ্ট নারকেল না ফেলে বরং পাটায় পিষে দিয়ে মাথার চুলে ম্যাসেজ করে লাগাতে পারেন । এরপর চুল ধুয়ে শুকিয়ে নেবেন। দেখবেন চুল যথেষ্ট পরিমাণ উজ্জ্বল হয়েছে এবং ঝরঝরে হয়েছে। একটি নারকেলের অর্ধেকটা কুরিয়ে নিয়ে এক কাপ গরম পানির সাথে ভাল করে চটকে নারকেলের দুধ বের করে নিয়ে পরিষ্কার দুধের সাথে একটি লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় চামড়ায় ভালোভাবে মেসেজ করে নিন । ২০/২৫মিনিট রেখে হালকা গরম পানিতে চুল ধুয়ে নিন । সপ্তাহে অন্তত একদিন এই পদ্ধতি করলে চুল ঝরে পড়া বন্ধ হবে।

আটাঃ
হয়তো অনেকেই জানেন না রান্না করার আটা আপনার ত্বকের পরিচর্যায় অনেক সহায়ক হতে পারে। সব ধরণেরই ত্বক এর জন্যই আটা ভালো কাজ করে । রূপচর্চার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নিজের মুখ বা চেহারা কে আকর্ষণীয় করে তোলা । আর মুখের জন্যই প্রধানত আটার ব্যবহার বেশি ।

১টেবিল-চামচ আটা নিয়ে তার সাথে ১ চামচ কাঁচা দুধ এবং একটু কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে মুখে মেখে ১০/১৫ মিনিট রেখে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ একবারে পরিষ্কার হয়ে যাবে। অল্প আটা হাতে নিয়ে পানি দিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগিয়েও সাবানের মতো মুখ পরিষ্কার করা যায়। অথবা, দুধের সরের সাথে আটা ও কাঁচা হলুদ মিশিয়ে মুখে মেখে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকে অনেকখানি লাবণ্য চলে আসবে।

গোলাপজলঃ
বিয়ে বাড়ি কিংবা রূপচর্চায় উভয় জায়গায় গোলাপ জলের চাহিদা আছে । রান্নাবান্নায় গোলাপজল তো চাই ই । যাইহোক, গোলাপ ফুলের নির্যাস থেকে বানানো হয় গোলাপ জল । আর তাই গোলাপের মত সুন্দর রুপের জন্য গোলাপ জলের বিভিন্ন ব্যবহার আছে । গ্লিসারিনের সাথে সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে ঠোঁটে দিলে ঠোঁট ফাটে না এবং ঠোঁটের রঙ ও সুন্দর হয় । এছাড়া, গোলাপজল দিয়ে স্কিন-ফ্রেশনার টনিক আপনি নিজেই বানাতে পারেন। এর জন্য আধা কাপ গোলাপজল একটা লেবুর রস আর কয়েক ফোঁটা মধু একত্রে মিশিয়ে নিলেই স্কিন-ফ্রেশনার টনিক তৈরি হয়ে যাবে । এই টনিক দিনে দুইবার তুলোয় করে মুখে লাগাতে পারেন। যাদের মুখ বা হাত পায়ের চামড়া খসখসে, তারা রাতে মুখ ভালো ভাবে ধুয়ে সমপরিমাণ গোলাপ জলের সাথে গ্লিসারিন মুখে হাতে এবং পায়ে মেখে নিতে পারেন । সকালে উঠে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন। এতে মুখের খসখসে ভাব থাকবে না এবং ত্বক কোমল হবে।

মধুঃ
রূপচর্চায় মধুর উপকারিতা বা ব্যবহার এর কথা বলে শেষ করা যাবে না। বহু ফেসপ্যাক মধু দিয়ে তৈরি করা হয়। মধুর কয়েকটি ব্যবহার এখানে লেখা হলোঃ

১। কাঁচা দুধ এবং কয়েক ফোঁটা মধু একত্রে মাখলে মুখের রং উজ্জ্বল এবং মসৃণ হয় ।

২। মধু(Honey) এবং বেসন একত্রে মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে মুখে মেখে ১০/১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি ও পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুলে মুখের(Face) ত্বক খুব সুন্দর ও মসৃণ হয়।

৩। কয়েক ফোঁটা মধু , কয়েক ফোঁটা লেবুর রস, ১ চা চামচ গাজরের রস, ১ চা চামচ ছোলার ডালের বেসন – একত্রে পেস্ট করে মুখে মেখে ১৫/২০ মিনিট রেখে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন । শুষ্ক, তৈলাক্ত বা স্বাভাবিক ত্বক- সব ধরনের ত্বকের জন্যই এই প্যাকটি খুবই উপকারী। এতে মুহূর্তেই মুখ হয়ে ওঠে মসৃণ ও কোমল ।

ডিমঃ
ডিম রূপচর্চায় এক অনন্য ভূমিকা পালন করে । ডিম দিয়ে মাথা ধোয়া, ডিমের তৈরি প্যাক বিভিন্নভাবে ত্বকের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। ডিমের প্যাক এ মুখের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। ডিমের কুসুম শুকনো ত্বকের পক্ষে খুবই ভালো। শুকনো ত্বকের(Dry skin) জন্য ডিমের কয়েকটি প্যাক নিচে দেয়া হলো।

১। ডিমের হলুদ অংশের সাথে আধা চা চামচ অলিভ অয়েল এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক করে নিন । এই প্যাকটি মুখ ধুয়ে পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১৫থেকে ২০মিনিট পরে প্রথমে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে ত্বকের জন্য খুবই ভালো ফল হবে ।

২।ডিমের কুসুম এবং তার সাথে আলমন্ড অয়েল অথবা অলিভ অয়েল আধা চামচ মিশিয়ে মুখে মেখে ১৫ মিনিট রেখে প্রথমে হালকা কুসুম গরম পানি এবং পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। সাধারণত এই প্যাক সপ্তাহে দুই তিনদিন লাগাতে পারেন । এতে আপনার নিষ্প্রাণ ত্বক সতেজ হয়ে উঠবে।

আমাদের লেখা আপনার কেমন লাগছে ও আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তবে নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার বন্ধুদের কাছে পোস্টটি পৌঁছে দিতে দয়া করে শেয়ার করুন। পুরো পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Recent Comments

No comments to show.